Posts

সংকলন ১৫- ভয়ংকর ভুতের গল্প

কেউ আপনারা টোকিওর আসাকাসাতে এলেই দেখতে পাবেন, আসাকাসা রোডের ধারে "কি-নো-কুনি- যাকা' নামে একটা ঢাল আছে। এটার মানে হল 'কি' প্রদেশের ঢাল। আমি জানি না,এটার নাম কেন 'কি' প্রদেশের ঢাল হল। সেই ঢালের এক ধারে দেখতে পাবেন  একটি পুরোনো মোটেল। অনেক বড় আর প্রশস্ত। মোটেলের চারপাশের খালি জায়গাটুকুর কোথাও কোথাও ঘন এবং লম্বা সবুজ ঝোপঝাড়ে ঢাকা। রাস্তার আরেক পাশে সম্রাটদের প্রাসাদের সুউচ্চ দেয়াল লম্বা হয়ে রাস্তার সাথে সাথে চলে গেছে। অনেক অনেক আগে,টোকিওতে যখন রাস্তায় বিজলী বাতি আসেনি অথবা মানুষে টানা রিক্সা গাড়ি চলা শুরু করেনি, তখন আসাকাসার এই ঢালটা ছিল ভীষন ভয়ঙ্কর আর নির্জন। মানুষ পারতঃপক্ষে সূর্য ডোবার পরে এ রাস্তা দিয়ে কখনই যেত না । কখনও কোন পথচারীর সূর্যডোবার পরে বাড়ি ফিরতে হলে "কি- নো-কুনি-যাকা' অনেক লম্বা পাহাড়ি পথ ঘুরে বাড়ি ফিরত, তবুও এ পথ দিয়ে যেত না। কারণ তখন রাত হলেই "মুজিনারা" পথে নেমে আসত। সব শেষ যে মানুষটি এক মুজিনাকে দেখেছিলেন, তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী।  তিনি কাছেই কোবায়েশী কোয়ার্টারএ থাকতেন। বছর তিরিশেক আগেই তিনি মারা যান। এক...

সংকলন ১৪- বামন ভুত

একরাশ অস্বস্তি নিয়ে ঘুম ভাঙল রুদ্রের। প্রথমে কিছুক্ষণ কিছুই ঠাহর করে উঠতে পারল না। তারপর চোখ গেল হাতঘড়ির দিকে। সকাল ছয়টা বেজে পনেরো মিনিট। ব্যাপার কি, এত সকালে তো তার ঘুম ভাঙে না! এতক্ষণে ঘরের কোনার গাছটি লক্ষ করল সে। গাছ! তার শোবার ঘরের ভেতর গাছ আসল কোত্থেকে? সাথে সাথে তড়াক করে বিছানায় উঠে বসল রুদ্র। ঘরের মধ্যে একটি খুদে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। মেরেকেটে দেড় ফুট লম্বা হবে কি না সন্দেহ। পরনে কটকটে হলুদ রঙের জ্যাকেট আর নীল প্যান্ট। - আহ্! ঘুম ভাঙল তাহলে। রুদ্র কী বলবে ভেবে পেল না। তাকিয়ে আছে হাঁ করে। - অবাক হচ্ছ? অবশ্য অবাক হবারই কথা। আমি একজন পাতালবাসী বামন ভুত। তুমি এর আগে কখনও ভুত দেখনি মনে হচ্ছে? কী উদ্ভট ব্যাপার! রুদ্র এখনও বিছানায় বসে আছে। কথার উত্তর দেবে কি, ভয়ে তার ব্রহ্মতালু পর্যন্ত শুকিয়ে গেছে। - আরে ভেবো না, আগেও আমি এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখেছি। আমার নাম আভান্তিকা রাপ্টাপুলাস। এসো পরিচিত হই। বামন ভুতটি এখন তার বিছানার দিকে এগিয়ে আসছে! রুদ্র খিঁচে বাথরুমের দিকে দৌড় দিল। হৃদপিণ্ড ধুকপুক করছে, তবু এর মধ্যেই তাকিয়ে দেখল পেছন দিকে। না, ভুতটা তাকে তাড়া করছে না। বাথরুমে ঢুকে দড়াম করে দরজা ল...

সংকলন ১৩- ৯ বছরের বাচ্চা (সত্য কাহিনী)

দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলায় একবার চোর সন্দেহে একটা ৯ বছরের বাচ্চা ছেলেকে পিটিয়ে মেরে ফেলে কিছু যুবক। বাচ্চাটার দোষ ছিল যে সে তার কাকার বাড়ি থেকে মোবাইল ফোন চুরি করেছে। তবে বাচ্চাটাকে মেরে ফেলার পর রাত ৯টার দিকে সেই ফোন খুঁজে পাওয়া যায়। ফোনটা আসলে বিছানার নিচে পড়ে গড়িয়ে একটু ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলো। যাই হোক, বাচ্চাটার লাশ কবর দেয়া হয় যথাসময়ে। ঘটনার কয়েকদিন পর থেকে সেই বাড়ির লোকদের মধ্যে এক অজানা ভীতি কাজ করতে লাগলো। অনেকেই বলতে লাগলো সেই বাড়ির টিনের চালে নাকি ঠিক সন্ধ্যাবেলা একটা ছোট বাচ্চাকে বসে থাকতে দেখা যায়। কেউ একা থাকলে তাকে দেখে পায়। একত্রে অনেক মানুষ থাকলে বা কেউ দেখার পর অন্য কাউকে ডেকে আনলে তাকে আর দেখা যায় না। বাড়ির লোকজন এই নিয়ে মসজিদের ইমামের সাথে কথা বলেন। পরে সেই বাসার প্রতিটি ঘর মিলাদ পড়ে বাঁধিয়ে দেয়া হয়। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। বাড়িটি বাঁধিয়ে দেয়ার পর অনেকেই রাস্তায় সেই ছেলেটির কবরের পাশে কাউকে বসে থাকতে দেখতে পান। যদি খুব ভালো করে লক্ষ্য করা যায় তবে দেখা যায় যে, একটা ছোট বাচ্চা কবরের পাশে মাথা নিচু করে বসে আছে। তার গাঁয়ে কোনও কাপড় নেই। সে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় অথবা ভয়ে কাঁপছে।...

সংকলন ১২- একটি রহস্যময় মৃত্যু

আমি দীপক। আগে ঢাকায় থাকতাম। বর্তমানে সিলেটে একটি ব্যাংকে কর্মরত আছি। আজকে আপনাদের সাথে যেই ঘটনা শেয়ার করবো তা আমার নিজের চোখে দেখা। আমি তখন ক্লাস ৪ এ পড়ি। থাকতাম তেজগাঁও রেলওয়ে কলোনিতে। স্কুল থেকে বাসায় এসেই খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। যেদিনের ঘটনা সেদিন বিকেলেও স্কুল থেকে এসে খেলতে গেলাম। আমাদের বাসার ঠিক সামনের বাসায় রাকিব নামে একটি ছেলে থাকতো। আমার সমবয়সী। দারুন খ্যাপাটে মেজাজের এবং ডানপিটে। আমরা সবাই তাকে একটু ভয় করতাম। যাই হোক, সেদিন আমরা ক্রিকেট খেলছিলাম। রাকিবদের বাড়ির সামনে একটা মাঠের মতো জায়গা আছে। বেশি বড় না, কিন্তু আমাদের মতো বাচ্চাদের জন্য যথেষ্ট। তার ঠিক ডান বাম পাশেই একটি বিরাট বড় বেল গাছ। সেই গাছে অনেক বড় বড় বেল ধরত। তবে কেন জানি না, কেউ সেই গাছের বেল খেত না। এমনকি আমরা ছোটরাও এড়িয়ে চলতাম গাছটিকে। আম্মু আব্বুরাও নিষেধ করতেন ঐ গাছের আসে পাশে যেতে। যাই হোক, আমাদের মাঝে একটা ছেলে ছিল একটু বড় শরীরের। বড় শরীরের মানে আমাদের সাথে একই ক্লাসে পড়ে কিন্তু দেখতে আমাদের চেয়ে বড়। সে হটাত করে একটি শট করে বল ঐ বেল গাছের দিকে মারল। আমরা সবাই চেয়ে দেখলাম বলটা সোজা গিয়ে বেল গাছের একটু...

সংকলন ১১- রাতের অ্যাম্বুলেন্স

আজ কাজে আসতে কামালের একটু দেরী হয়ে যায় । এখন বাজে সকাল প্রায় ৯ টা ৪৫ মিনিট । হাজিরা খাতায় সই করতে করতে কামাল একবার আশে পাশে চোখ বুলায় তারপর ঝট করে হাজিরের ঘরে লিখে ফেলে ৯টা ৩০ মিনটি । তার পর পাশের টেবিলে বসা এক বুড়োকে লক্ষ্য করে বলে- বুঝলেন কলিম চাচা বউডার শরীর বেশি ভালা না । আট মাস চলতাছে । অনেক চিন্তায় আছি । বাসায় কেউ নাই যে দেখভাল করবো । কি যে করি ? একটু থেমে আবার বলে -আমারই সব করতে হয় । তার উপর টাকা পয়সার সমস্যায় আছি । -একটা কামের লোক রাখতে পারো না মিঞা ? পাশের টেবিলে বসে থাকা ৬০ বছর বয়সের বৃদ্ব কলিম মিয়া কথাটা বলে কিছুটা থামে , তারপর আবার বলে - জানো তো পরপর তিনদিন লেট হইলে এক দিনের বেতন পানিতে যাইবো । তোমার এ মাসে ওলরেডি ৭ দিন লেট । মানে ২ দিনের বেতন নাই । ব্যাপারটা মাথায় রাইখো । কামাল কিছু বলে না মাথা নাড়ায় । সে ব্যাপারটা জানে । সরওয়াদি হাসপাতালের এ্যম্বুলেন্স ড্রাইভার হিসাবে গত মাস দু’য়েক আগে যোগ দিয়েছে কামাল । ওর কাজ হলো সারাদিন এ্যম্বুলেস চালান । যেদিন কাজের চাপ থাকে সেদিন এতো বেশি থাকে যে খাওয়া দাওয়ার সময় থাকে না । আর যেদিন কাজের চাপ কম থাকে সেদিন দেখা ...

সংকলন ১০- বিরাতের ডাক

সোরাব ভাই ? সোরাব ভাই ? মতির ডাকে ঘুম ভাঙল সোহরাবের। অল্প ঘুমের মানুষ সে । এক ডাকেই জেগে উঠলো । কিন্তু বিছানা ছাড়ল না । শরীরটা আর আগের মত নেই । -সোরাব ভাই ? ও সোরাব ভাই ? পুরোপুরি ঘুম ভেঙে গেছে সোহরাবের । জোয়ান বয়সের মতএখন আর লাফ দিয়ে উঠে বসতে পারে না । সময় লাগে । বয়সকালে ঘোড়ার মত তেজি ছিলসে । কাঠের চৌকিতে মট মট শব্দকরে উঠে বসে সোহরাব । -খাড়া মতি , আইতাছি । জগ থেকে এক গ্লাস পানি খায় সে । আজকে উত্তরের বিলে যাওয়ার কথা মতির সাথে । জাল বাছতে হবে । মানুষে কারেন্ট জাল পাতে ওদিকে । অনেক মাছ আটকা পরে । নিজেদের জালের মাছ ছাড়াও অন্যদেরও জাল বাছে ওরা । তাই এই ভোর রাতে যাওয়া । বারতি সাবধানতা । ভোরের আলো ফোটার আগে মাছগুলোতাজা তাজা হাটে নিতে হবে । তাজা মাছের দাম ভালো । সকাল বেলা ভালো দাম মেলে । কত বেলা হল ? ভাবে সোহরাব । চোখে এখনো ঘুম ঘুম । ফযরের বেলাতেও তার ঘুম পায় ? ভেবে অবাক হয় সে । হায়রে বয়স ! - সোরাব ভাই ? ও সোরাব ভাই ? - আইতাছি কইলাম না ! খাড়া ! মতি থেমে যায় । নতুন বিয়ে করেছে সে । অল্প বয়স – উত্তেজনা বেশি । এক সময় এ দিন তারও ছিল । দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সোহরাব । হাতে একটা বে...

সংকলন ৯- অদ্ভুত যুবক

তখন আমরা ময়মনসিংহের ত্রিশালে থাকি। আমি তখনখুব ছোট। যেইদিনের ঘটনাসেদিন আমার আম্মু রান্না ঘরে মাছ ভাঁজছিলেন। এমন সময় খাকি প্যান্ট আর গেঞ্জিপড়া এক যুবক আসলো আমাদের কোয়ার্টারের বারান্দায়। আব্বু বাসায় ছিলেন। তিনি ভাবলেন হয়তো সাহায্য চাওয়ার জন্য এসেছে, কারন যুবকটি কোনো কথা বলছিল না। তখন আব্বু একটি ২ টাকার নোট বের করে ছেলেটিকে দিতে চাইলেন। কিন্তু সে তা নিলো না। তখন আব্বু আম্মুকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “ছেলেটা তো টাকা নিচ্ছে না।” তখন আম্মু বললেন ৫ টাকা দেয়ার জন্য। তখন আব্বু ৫ টাকা বের করে বারান্দায় এলেন ছেলেটিকে দেয়ার জন্য। আম্মুও বেরিয়ে এলেন এই অদ্ভুত যুবকটিকে দেখার জন্য। কিন্তু এবারো সেই যুবক টাকা গ্রহন করলো না। বরং ইশারায় আব্বুকে বললেন টাকাটা তিনি যেনোআম্মুর হাতে দেন। আব্বুআম্মুর হাতে টাকাটা দিলেন।  ছেলেটি এবার ইশারায় আম্মুকে বললেন তার টাকা ধরা হাতটি মুঠো করার জন্য। এই পর্যন্ত ছেলেটি একটি কথাও বলেনি। আম্মু কৌতূহল বশত হাতটি মুঠো করলেন। এবার সে দুই হাত মুঠো করে একটার পিছনে আরেকটি ঘসে দিল এবং আম্মুকে তাই করতে বলল। আম্মু মন্ত্রমুগ্ধের মত তাই করলেন। এবার ছেলেটি আম্মুকে ইশারা করল...