Posts

Showing posts from April, 2018

সংকলন ১৫- ভয়ংকর ভুতের গল্প

কেউ আপনারা টোকিওর আসাকাসাতে এলেই দেখতে পাবেন, আসাকাসা রোডের ধারে "কি-নো-কুনি- যাকা' নামে একটা ঢাল আছে। এটার মানে হল 'কি' প্রদেশের ঢাল। আমি জানি না,এটার নাম কেন 'কি' প্রদেশের ঢাল হল। সেই ঢালের এক ধারে দেখতে পাবেন  একটি পুরোনো মোটেল। অনেক বড় আর প্রশস্ত। মোটেলের চারপাশের খালি জায়গাটুকুর কোথাও কোথাও ঘন এবং লম্বা সবুজ ঝোপঝাড়ে ঢাকা। রাস্তার আরেক পাশে সম্রাটদের প্রাসাদের সুউচ্চ দেয়াল লম্বা হয়ে রাস্তার সাথে সাথে চলে গেছে। অনেক অনেক আগে,টোকিওতে যখন রাস্তায় বিজলী বাতি আসেনি অথবা মানুষে টানা রিক্সা গাড়ি চলা শুরু করেনি, তখন আসাকাসার এই ঢালটা ছিল ভীষন ভয়ঙ্কর আর নির্জন। মানুষ পারতঃপক্ষে সূর্য ডোবার পরে এ রাস্তা দিয়ে কখনই যেত না । কখনও কোন পথচারীর সূর্যডোবার পরে বাড়ি ফিরতে হলে "কি- নো-কুনি-যাকা' অনেক লম্বা পাহাড়ি পথ ঘুরে বাড়ি ফিরত, তবুও এ পথ দিয়ে যেত না। কারণ তখন রাত হলেই "মুজিনারা" পথে নেমে আসত। সব শেষ যে মানুষটি এক মুজিনাকে দেখেছিলেন, তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী।  তিনি কাছেই কোবায়েশী কোয়ার্টারএ থাকতেন। বছর তিরিশেক আগেই তিনি মারা যান। এক...

সংকলন ১৪- বামন ভুত

একরাশ অস্বস্তি নিয়ে ঘুম ভাঙল রুদ্রের। প্রথমে কিছুক্ষণ কিছুই ঠাহর করে উঠতে পারল না। তারপর চোখ গেল হাতঘড়ির দিকে। সকাল ছয়টা বেজে পনেরো মিনিট। ব্যাপার কি, এত সকালে তো তার ঘুম ভাঙে না! এতক্ষণে ঘরের কোনার গাছটি লক্ষ করল সে। গাছ! তার শোবার ঘরের ভেতর গাছ আসল কোত্থেকে? সাথে সাথে তড়াক করে বিছানায় উঠে বসল রুদ্র। ঘরের মধ্যে একটি খুদে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। মেরেকেটে দেড় ফুট লম্বা হবে কি না সন্দেহ। পরনে কটকটে হলুদ রঙের জ্যাকেট আর নীল প্যান্ট। - আহ্! ঘুম ভাঙল তাহলে। রুদ্র কী বলবে ভেবে পেল না। তাকিয়ে আছে হাঁ করে। - অবাক হচ্ছ? অবশ্য অবাক হবারই কথা। আমি একজন পাতালবাসী বামন ভুত। তুমি এর আগে কখনও ভুত দেখনি মনে হচ্ছে? কী উদ্ভট ব্যাপার! রুদ্র এখনও বিছানায় বসে আছে। কথার উত্তর দেবে কি, ভয়ে তার ব্রহ্মতালু পর্যন্ত শুকিয়ে গেছে। - আরে ভেবো না, আগেও আমি এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখেছি। আমার নাম আভান্তিকা রাপ্টাপুলাস। এসো পরিচিত হই। বামন ভুতটি এখন তার বিছানার দিকে এগিয়ে আসছে! রুদ্র খিঁচে বাথরুমের দিকে দৌড় দিল। হৃদপিণ্ড ধুকপুক করছে, তবু এর মধ্যেই তাকিয়ে দেখল পেছন দিকে। না, ভুতটা তাকে তাড়া করছে না। বাথরুমে ঢুকে দড়াম করে দরজা ল...

সংকলন ১৩- ৯ বছরের বাচ্চা (সত্য কাহিনী)

দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলায় একবার চোর সন্দেহে একটা ৯ বছরের বাচ্চা ছেলেকে পিটিয়ে মেরে ফেলে কিছু যুবক। বাচ্চাটার দোষ ছিল যে সে তার কাকার বাড়ি থেকে মোবাইল ফোন চুরি করেছে। তবে বাচ্চাটাকে মেরে ফেলার পর রাত ৯টার দিকে সেই ফোন খুঁজে পাওয়া যায়। ফোনটা আসলে বিছানার নিচে পড়ে গড়িয়ে একটু ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলো। যাই হোক, বাচ্চাটার লাশ কবর দেয়া হয় যথাসময়ে। ঘটনার কয়েকদিন পর থেকে সেই বাড়ির লোকদের মধ্যে এক অজানা ভীতি কাজ করতে লাগলো। অনেকেই বলতে লাগলো সেই বাড়ির টিনের চালে নাকি ঠিক সন্ধ্যাবেলা একটা ছোট বাচ্চাকে বসে থাকতে দেখা যায়। কেউ একা থাকলে তাকে দেখে পায়। একত্রে অনেক মানুষ থাকলে বা কেউ দেখার পর অন্য কাউকে ডেকে আনলে তাকে আর দেখা যায় না। বাড়ির লোকজন এই নিয়ে মসজিদের ইমামের সাথে কথা বলেন। পরে সেই বাসার প্রতিটি ঘর মিলাদ পড়ে বাঁধিয়ে দেয়া হয়। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। বাড়িটি বাঁধিয়ে দেয়ার পর অনেকেই রাস্তায় সেই ছেলেটির কবরের পাশে কাউকে বসে থাকতে দেখতে পান। যদি খুব ভালো করে লক্ষ্য করা যায় তবে দেখা যায় যে, একটা ছোট বাচ্চা কবরের পাশে মাথা নিচু করে বসে আছে। তার গাঁয়ে কোনও কাপড় নেই। সে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় অথবা ভয়ে কাঁপছে।...

সংকলন ১২- একটি রহস্যময় মৃত্যু

আমি দীপক। আগে ঢাকায় থাকতাম। বর্তমানে সিলেটে একটি ব্যাংকে কর্মরত আছি। আজকে আপনাদের সাথে যেই ঘটনা শেয়ার করবো তা আমার নিজের চোখে দেখা। আমি তখন ক্লাস ৪ এ পড়ি। থাকতাম তেজগাঁও রেলওয়ে কলোনিতে। স্কুল থেকে বাসায় এসেই খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। যেদিনের ঘটনা সেদিন বিকেলেও স্কুল থেকে এসে খেলতে গেলাম। আমাদের বাসার ঠিক সামনের বাসায় রাকিব নামে একটি ছেলে থাকতো। আমার সমবয়সী। দারুন খ্যাপাটে মেজাজের এবং ডানপিটে। আমরা সবাই তাকে একটু ভয় করতাম। যাই হোক, সেদিন আমরা ক্রিকেট খেলছিলাম। রাকিবদের বাড়ির সামনে একটা মাঠের মতো জায়গা আছে। বেশি বড় না, কিন্তু আমাদের মতো বাচ্চাদের জন্য যথেষ্ট। তার ঠিক ডান বাম পাশেই একটি বিরাট বড় বেল গাছ। সেই গাছে অনেক বড় বড় বেল ধরত। তবে কেন জানি না, কেউ সেই গাছের বেল খেত না। এমনকি আমরা ছোটরাও এড়িয়ে চলতাম গাছটিকে। আম্মু আব্বুরাও নিষেধ করতেন ঐ গাছের আসে পাশে যেতে। যাই হোক, আমাদের মাঝে একটা ছেলে ছিল একটু বড় শরীরের। বড় শরীরের মানে আমাদের সাথে একই ক্লাসে পড়ে কিন্তু দেখতে আমাদের চেয়ে বড়। সে হটাত করে একটি শট করে বল ঐ বেল গাছের দিকে মারল। আমরা সবাই চেয়ে দেখলাম বলটা সোজা গিয়ে বেল গাছের একটু...

সংকলন ১১- রাতের অ্যাম্বুলেন্স

আজ কাজে আসতে কামালের একটু দেরী হয়ে যায় । এখন বাজে সকাল প্রায় ৯ টা ৪৫ মিনিট । হাজিরা খাতায় সই করতে করতে কামাল একবার আশে পাশে চোখ বুলায় তারপর ঝট করে হাজিরের ঘরে লিখে ফেলে ৯টা ৩০ মিনটি । তার পর পাশের টেবিলে বসা এক বুড়োকে লক্ষ্য করে বলে- বুঝলেন কলিম চাচা বউডার শরীর বেশি ভালা না । আট মাস চলতাছে । অনেক চিন্তায় আছি । বাসায় কেউ নাই যে দেখভাল করবো । কি যে করি ? একটু থেমে আবার বলে -আমারই সব করতে হয় । তার উপর টাকা পয়সার সমস্যায় আছি । -একটা কামের লোক রাখতে পারো না মিঞা ? পাশের টেবিলে বসে থাকা ৬০ বছর বয়সের বৃদ্ব কলিম মিয়া কথাটা বলে কিছুটা থামে , তারপর আবার বলে - জানো তো পরপর তিনদিন লেট হইলে এক দিনের বেতন পানিতে যাইবো । তোমার এ মাসে ওলরেডি ৭ দিন লেট । মানে ২ দিনের বেতন নাই । ব্যাপারটা মাথায় রাইখো । কামাল কিছু বলে না মাথা নাড়ায় । সে ব্যাপারটা জানে । সরওয়াদি হাসপাতালের এ্যম্বুলেন্স ড্রাইভার হিসাবে গত মাস দু’য়েক আগে যোগ দিয়েছে কামাল । ওর কাজ হলো সারাদিন এ্যম্বুলেস চালান । যেদিন কাজের চাপ থাকে সেদিন এতো বেশি থাকে যে খাওয়া দাওয়ার সময় থাকে না । আর যেদিন কাজের চাপ কম থাকে সেদিন দেখা ...

সংকলন ১০- বিরাতের ডাক

সোরাব ভাই ? সোরাব ভাই ? মতির ডাকে ঘুম ভাঙল সোহরাবের। অল্প ঘুমের মানুষ সে । এক ডাকেই জেগে উঠলো । কিন্তু বিছানা ছাড়ল না । শরীরটা আর আগের মত নেই । -সোরাব ভাই ? ও সোরাব ভাই ? পুরোপুরি ঘুম ভেঙে গেছে সোহরাবের । জোয়ান বয়সের মতএখন আর লাফ দিয়ে উঠে বসতে পারে না । সময় লাগে । বয়সকালে ঘোড়ার মত তেজি ছিলসে । কাঠের চৌকিতে মট মট শব্দকরে উঠে বসে সোহরাব । -খাড়া মতি , আইতাছি । জগ থেকে এক গ্লাস পানি খায় সে । আজকে উত্তরের বিলে যাওয়ার কথা মতির সাথে । জাল বাছতে হবে । মানুষে কারেন্ট জাল পাতে ওদিকে । অনেক মাছ আটকা পরে । নিজেদের জালের মাছ ছাড়াও অন্যদেরও জাল বাছে ওরা । তাই এই ভোর রাতে যাওয়া । বারতি সাবধানতা । ভোরের আলো ফোটার আগে মাছগুলোতাজা তাজা হাটে নিতে হবে । তাজা মাছের দাম ভালো । সকাল বেলা ভালো দাম মেলে । কত বেলা হল ? ভাবে সোহরাব । চোখে এখনো ঘুম ঘুম । ফযরের বেলাতেও তার ঘুম পায় ? ভেবে অবাক হয় সে । হায়রে বয়স ! - সোরাব ভাই ? ও সোরাব ভাই ? - আইতাছি কইলাম না ! খাড়া ! মতি থেমে যায় । নতুন বিয়ে করেছে সে । অল্প বয়স – উত্তেজনা বেশি । এক সময় এ দিন তারও ছিল । দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সোহরাব । হাতে একটা বে...

সংকলন ৯- অদ্ভুত যুবক

তখন আমরা ময়মনসিংহের ত্রিশালে থাকি। আমি তখনখুব ছোট। যেইদিনের ঘটনাসেদিন আমার আম্মু রান্না ঘরে মাছ ভাঁজছিলেন। এমন সময় খাকি প্যান্ট আর গেঞ্জিপড়া এক যুবক আসলো আমাদের কোয়ার্টারের বারান্দায়। আব্বু বাসায় ছিলেন। তিনি ভাবলেন হয়তো সাহায্য চাওয়ার জন্য এসেছে, কারন যুবকটি কোনো কথা বলছিল না। তখন আব্বু একটি ২ টাকার নোট বের করে ছেলেটিকে দিতে চাইলেন। কিন্তু সে তা নিলো না। তখন আব্বু আম্মুকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “ছেলেটা তো টাকা নিচ্ছে না।” তখন আম্মু বললেন ৫ টাকা দেয়ার জন্য। তখন আব্বু ৫ টাকা বের করে বারান্দায় এলেন ছেলেটিকে দেয়ার জন্য। আম্মুও বেরিয়ে এলেন এই অদ্ভুত যুবকটিকে দেখার জন্য। কিন্তু এবারো সেই যুবক টাকা গ্রহন করলো না। বরং ইশারায় আব্বুকে বললেন টাকাটা তিনি যেনোআম্মুর হাতে দেন। আব্বুআম্মুর হাতে টাকাটা দিলেন।  ছেলেটি এবার ইশারায় আম্মুকে বললেন তার টাকা ধরা হাতটি মুঠো করার জন্য। এই পর্যন্ত ছেলেটি একটি কথাও বলেনি। আম্মু কৌতূহল বশত হাতটি মুঠো করলেন। এবার সে দুই হাত মুঠো করে একটার পিছনে আরেকটি ঘসে দিল এবং আম্মুকে তাই করতে বলল। আম্মু মন্ত্রমুগ্ধের মত তাই করলেন। এবার ছেলেটি আম্মুকে ইশারা করল...

সংকলন ৮- পানির উপরে লাশ

আমাদের গ্রামের বাড়ি নড়াইলে। বাস থেকে নেমে ১৫ মিনিট মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। আমি প্রতি ১৫ দিনে একবার করে যেতাম বাড়িতে। এখন দেশের বাইরে থাকি তাই যাওয়া হয় না। আপনাদের সাথে যেদিনের কথা শেয়ার করবো তখন আমি ইন্টারে পড়তাম। ঢাকা কলেজে। কলেজ হটাত একদিন বিকালের দিকে বন্ধ দিলো কিছু রাজনৈতিক কারণে। ভাবলাম বাসায় চলে যাবো। মাকে ফোন করে জানালাম। কিন্তু স েদিন বাসায় রাতে আমাকে আনতে যাবার মতো কেউ ছিল না। তাই মা বললেন আসিস না। আমি তবু জিদ করে গেলাম। বাস থেকে নেমে হাঁটা ধরলাম বাড়ির দিকে। রাস্তা পরিষ্কার। তখন শীতের শুরু। তাই মানুষজন একদমই নেই। রাস্তায় কিছুদূর যাবার পর একটা ডোবা পড়ে। তার পাশেই এক বিশাল তাল গাছ। এখানে নাকি অনেকেই খারাপ জিনিস দেখেছে। যদিও আমার সাথে কখনো এমন কিছু ঘটে নি। এবার অনেকদিন পরে বাসায় যাচ্ছি, তাই আনন্দিত ছিলাম। ঠিক ডোবার পাশে আসার সাথে সাথে হটাত পানিতে কি যেন ঝাঁপিয়ে পড়ার আওয়াজ পেলাম। আকাশে চাঁদ ছিল। মোটামুটি ভালোই দেখা যাচ্ছিলো। সেই আলোয় দেখলাম পানিতে একটা মানব দেহ ভাসছে। সাদা কাপড় পড়া। মানে কিভাবে বুঝাব বুঝতেছি না। আসলে সেটা এক মেয়ের দেহ। শরীরে শাড়ি পড়া, কিন্তু পুরো শরীর ঢাকা না...

সংকলন ৭- ভয়ানক (ভুত এফএম)

ঘটনাটি আমার এক বড় ভাই আনিসের কাছ থেকে শোনা। ঘটনাটি ঘটেছিল জামালপুরে। জামালপুরে একজন রিক্সাচালক ছিল। সে অতিরিক্ত ইনকামের জন্য রাতের বেলা বেশিরভাগ সময় রিক্সা চালাতো। কারণ রাতের বেলা ভাড়াটা বেশি পাওয়া যায় বা দূরের যাত্রি পাওয়া যায় যেহুতু সেখানে রেলস্টেশন আছে ।একদিন সে রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। আর কোন রিক্সাওয়ালা তেমন একটা নাই। অনেকরাত। একটা লাস্ট ট্রেন যেটা আসবে সেটা ২ঘন্টার মত দেরী করে ফেলছে।হঠাত্ ট্রেনটি আসল এবং একজন মাত্রপ্যাসেন্জার নামল। লোকটা স্যুট,বুট পড়েছিল এবং হাতে ছিলএকটা ব্রিফকেস। লোকটা এসে রিক্সাওয়ালাকে বলল যাবা। রিক্সাওয়ালা বলল যাবো,কোথায়?? লোকটা বলল আমিযেদিকে বলবো সেদিকে চলো। রিক্সাওয়ালা চালাচ্ছে । চালাতে চালাতে জামালপুরের সবচেয়ে বড় যে কবর স্থানটা সেখানে গের। সাধারনত কবরস্থানের গেটে বিশাল বড় একটা তালা থাকে। লোকটা যখন গেটের সামনে গিয়ে দাড়াল তালাটা autometic খুলে গেল। রিক্সাওয়ালা তখন এই দৃশ্য দেখতেছে। লোকটা ভেতরে চলে গেল।অনেকক্ষন পরে সে হাতে করে কিছু একটা নিয়ে আসতেছে । কাপড়ে ঢাকা একটা ছোটখাট লাশএই টাইপের কিছু একটা নিয়ে আসতেছে । তো সে রিক্সার কাছে আসল এবং রিক্সাওয়ালাকে বলল আমাকে...

সংকলন ৬- ভুত এফ এম এপিসড (ব্লগার দিকভ্রান্ত পথিক)

মেঘলা বিকেলটা একটু অশুভই লাগছিল। মেঘলা আকাশ আর দমকা হাওয়া কেমন যেন একটা আচ্ছন্ন ভাব এনে দিয়েছিল বিকেলটিকে। তখনও আমার বিন্দুমাত্র ধারনা ছিলনা যে বিকেলটি আসলেই কতটা অশুভ ছিল। পরিষ্কার ধারনার খাতিরেই ঘটনাটির একটি সাধারণ ভুমিকা দেয়া প্রয়োজন। আমি স্টুডেন্ট। উচ্চ-মাধ্যমিক এর পাট চুকিয়ে এখন পড়াশুনা করছি মালয়েশিয়ার সবথেকে প্রসিদ্ধ বিদ্যাপীঠ গুলোর একটিতে। আমি সে বিষয়ে বিস্তারিত শেয়ার করা প্রয়োজন মনে করছিনা। সরাসরি গল্পেই চলে যাচ্ছি।  মাত্র শেষ করা সেমিস্টারের ঘটনা, বৃহস্পতিবার শেষ বিকেলে একটি ক্লাস পড়েছিল তখন। কো-কারিকুলার বিষয় এর মধ্যে পড়ার কারনে আলাদা ফ্যাকাল্টি ভবনে ক্লাস ছিল। বাস এর অপেক্ষায় না থেকে হেঁটে চলে গেলাম। যাহোক, যথাসময়য়ে ক্লাস জয়েন করলাম। বিপত্তি বাধল যখন সন্ধ্যা হবে হবে সে সময়। হঠাত করে প্রচণ্ড বিকট একটি আর্ত চিৎকার, নারী কণ্ঠের। ভয়াবহ বিকট ছিল সেই চিৎকার, যেন মৃত্যুর আগে শেষ চিৎকার! অনেক নিরব পরিবেশ, তার উপরে প্রায় সাউন্ড প্রুফ কক্ষে হচ্ছিল ক্লাস, চিত্কার তাই বেশ Weired শুনিয়েছিল! মোটামুটি সবাই ছিটকে বেরুলাম, বিশেষ করে ছেলেরা আর আমাদের শিক্ষিকা, মেয়...

সংকলন ৫- কবরস্থান : আরিফুল হক হিমেল

কৃষ্ণ পক্ষের একটুকরো চাঁদ যেনো আকাশ থেকে ক্লান্তভাবে ঝুলে পড়েছে। নিকষ কালো অন্ধকার । আকাশে মেঘ জমেছে। মাঝে মাঝে মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ছে চাঁদ। বাইরে ভূতুরে হলদে আলো ছড়াচ্ছে ল্যাম্প পোষ্টের পুরনো বাতিটি। সবখানে ভয়ংকর নিস্তব্দতা। এমন সময় ঝুপ করে শব্দ হল। নীচু দেয়াল টপকে কবরস্থানের ভিতরে নামল মজিদ। মাথাটা নীচু করে দেয়ালের সাথে চেপে রইল। হাপাচ্ছে মজিদ। হৃদপিন্ড হাতুরির মতো বাড়ি খাচ্ছে বুকে। আজ একটুর জন্য ধরা পড়ে গিয়েছিল। দশ বছরের কাজের জীবনে তার এমন কখনো হয়নি। মানুষজন সব চালাক হয়ে গেছে। সব সময় কানখাড়া থাকে,একটু শব্দ হলেই জেগে যায়। আজ তো কাজের কাজ কিছুই হলো না মাঝখান থেকে এতবড় বিপদের মধ্যে পড়ল। বাইরে মানুষের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। মজিদ মাথাটা আরও একটু নীচু করে প্রায় শুয়ে পড়ল। মাথার উপর দিয়ে তিন ব্যাটারির তীব্র টর্চের আলোটা বেশ কয়েকবার ঘুরে গেল। বেশ কিছুক্ষন কোলাহলের শব্দ পাওয়া গেল। তারপর সব থেমে গেল। আগের মতো সুনসান,চুপচাপ। গুড়–ম গুড়–ম শব্দে মেঘ ডাকছে। চাঁদটা আবার ঢেকে গেছে মেঘে। জোর বাতাস বইছে। ঠান্ডা বাতাস। মজিদের গায়ে কাটা দিয়ে উঠছে। মজিদ সোজা হয়ে বসেছে। কয়েকবার উঁচু হয়ে দেয়ালের বাইরে দেখল। ন...

সংকলন ৪- ভয়ংকর রাত

ইদানীং এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে রকি। দিন-দুপুরে, রাতে- মোটকথা চোখে ঘুম এলেই স্বপ্নটা ওকে তাড়া করে বেড়ায়। যে কারণে রাতে ঠিক মতন ঘুমতে পারছে না ও। ফলে দিন দিন কাহিল হয়ে যাচ্ছে রকি। ভেঙে আসছে শরীর। সবাই শুনে হাসবে ভেবে কাউকে খুলেও বলতে পারছে না ও সমস্যাটার কথা। একদিন বিকেলে পরিচিত এক ডাক্তারের চেম্বারে হাজির হলো রকি। ডাক্তার ভদ্রলোক মন দিয়েই ওর কথা শুনতে লাগলেন। ‘অস্পস্টভাবে, আবছা আবছা দেখলাম আমি বাইরে থেকে বাসায় এসেছি।’ ঘটনাটা বলতে লাগলো রকি। দুঃস্বপ্নের ঘটনা,‘মনে হলো রাতের বেলা। এ ঘর থেকে ও ঘরে যাচ্ছি। চারদিকে আলো-আঁধারীর খেলা। মাঝেমধ্যে কাউকে ডাকছি বলে মনে হলো। এবং যাকে ডাকছি তাকেই সম্ভবত খুঁজছি সারা ঘরময়। এ ঘর থেকে ও ঘরে ঢুকে বাতি জ্বালাচ্ছি। একসময় রান্না ঘরে পৌছুলাম। এবং যা দেখলাম...’ থেমে গেলো রকি। বিভৎস কিছু কল্পনায় এসেছে বলে কথা আটকে গেছে ওর মুখে। ওকে অভয় দিলেন ডাক্তার,‘রিলেক্স রকি, ধৈর্য্যে নিয়ে বলতে থাকো।’ ঠোঁটজোড়া কেঁপে উঠল রকির। কাঁপাকাঁপা ঠোঁটে আবার শুরু করল ও,‘দেখি...দে-দেখি সারা কিচেন জুড়ে রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। বেসিনে টিপটিপ করে রক্তের ফোঁটা পড়ছে। আর...চুল...

সংকলন ৩- শিকার (অবনীল এর ব্লগ)

শপিং মলের সাম্নের লম্বা ফাঁকা জায়গাটা দিয়ে ধীরে ধীরে গাড়ী চালিয়ে আসার সময় বাচচাটাকে দেখতে পেল শেরিডান। ‘কাজিনটাউন’ লেখা নিয়ন সাইনটার নিচের মেইন দরজাটা ঠেলে বেরিয়ে আসলো ছেলেটা। বয়স বড়জোর তিন থেকে পাঁচ হবে। চেহারায় এমন একটা অভিব্যক্তি, যার সাথে শেরিডান ভালভাবেই পরিচিত। না কাঁদার চেষ্টা করছে বাচ্চাটা, কিন্তু একটু পরেই কাঁদা শুরু করবে। একমুহূর্তের জন্য একটু থাম্লো শেরিডান, নিজের উপর একটা হাল্কা বিরক্তি অনুভব করলো...যদিও যতবার এক্টা করে বাচ্চা তুলে নেয়, অনুভূতিটা ততই একটু একটু করে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। প্রথমবার এক সপ্তাহের জন্য ঘুমাতে পারেনি। খালি চিন্তা করত ওই বিশাল থলথলে তুর্কিটার কথা, নিজেকে মিস্টার উইজার্ড বলে পরিচয় দেয়। খালি ভাবত ব্যাটা বাচ্চাগুলোকে নিয়ে কি করে। “নৌকাভ্রমনে যায় ওরা, মিস্টার শেরিডান”, তুর্কিটা বলেছিল ওকে, কিন্তু কথাটা শোনাত এরকম – নৌকা বরমনে জায় অরা, মিশটার শারডান। তুর্কিটা হাসত। হাসিটা বলত, নিজের ভাল চাইলে এই ব্যাপার আর কিছু জিজ্ঞেস করবি না। কোন ধরনের আন্‌চলিক টান ছাড়াই পরিস্কারভাবে বুঝিয়ে দিত। শেরিডান আর কখনো জিজ্ঞেস করেনি। কিন্তু তার মানে এই না যে এটা নিয়ে ভাবত না। বি...

সংকলন ২- বৃষ্টিপিশাচ (ত্রিমাত্রিক কবি এর ব্লগ)

এক। সারাদিন প্রচন্ড গরম। একেবারে বাজে রকমের ভ্যাপসা গরম। একটা গাছের পাতাও নড়ে না এরকম সময়ে। প্রচন্ড গরমের বিরুদ্ধে গাছপালাও মনে হয় অহিংস আন্দোলনের উদ্দেশ্যে একেবারে মৌনতা পালন করে। অবশ্য এই দু'হাজার বারো সালে ঢাকা শহরে গাছ আছেই বা কোথায়। এই জায়গাটায় অবশ্য এখনও গাছাপালা আছে বেশ কিছু। ঢাকা শহরের প্রচণ্ড ব্যাস্ততার মধ্যেও এই জায়গাটা একটু অন্যরকম, বিশেষ করে ছুটির দিনে। ইন্দিরা রোড। রাস্তার একপাশে খামারবাড়ি, আরেকপাশে তেজগাঁও কলেজ। ছুটির দিনে কলেজ বন্ধ থাকলে রাস্তাটা বেশ লাগে। যদিও একটু ভেতরে ঢুকলেই চাপা গলি আর ভাঙ্গা রাস্তায় জমে থাকা কাঁদাজলের জঞ্জাল, হার্ডওয়ারের দোকান। তারপরেও এই রাস্তাটা সবকিছু থেকে একটু আলাদা। রাস্তাটা অনেকটা ক্যাফেটেরিয়ার মত, লোকমানের কাছে অন্তত তাই মনে হয়। মাঝে মাঝে ছুটির দিনে খ্যাপ ট্যাপ না পেলে, বা খ্যাপ ট্যাপ না মারতে ইচ্ছা করলে, সিএনজির মধ্যেই একেবারে আরামে ঘুম দেয় লোকমান। আশেপাশে কিছু সস্তার খাবারের দোকানও আছে। আঁখের রস ভাঙ্গানোর গাড়ি আছে পাশেই। দুটা সিঙ্গারা আর একগ্লাস আঁখের রস ঢকঢক করে গিলে ছুটির দিনে প্রায়ই সিএনজির মধ্যে গুটলি পাকিয়ে ঘুম দ...

সংকলন ১- আমি এবং মামা

ঘটনাটি ৩-৪ বছর আগে আমার মামার সাথে ঘটছিলো।ঘটনাটি মামার ভাষাতেই দিলাম।তখন রাত ১টা বাজে।দোকান বন্ধ করব।হঠাত্ মোবাইলে একটা কল এল।দেখি বন্ধু শাহীন ফোন করেছে। ভাবলাম,এত রাতে ওর ফোন ,কাহিনী কি?ফোন ধরলাম।ধরেই একটা দুঃসংবাদ শুনতে হল।ওর চাচা কিছুক্ষন আগে মারা গেছেন।কাল সকালে তার জানাজা হবে।এখন মসজিদে মসজিদে গিয়ে হুজুরদের বলতে হবে তারা যেন ফজরের ওয়াক্তে মাইকিং করে দেন।আমি ওর সাথে যেতে পারব কিনা জানতে চাইল। আমি এককথায় রাজি হলাম।আধ ঘণ্টার মধ্যে ওর বাসায় হাজির হলাম।তারপর দুজনে একসাথে বের হয়ে বিভিন্ন মসজিদে যেতে লাগলাম।তখন ৩টা কি ৩’৩০টা বাজে।দুজনে এক মসজিদ থেকে বের হয়ে আরেকটি মসজিদের দিকে রওনা হলাম। যে মসজিদটিতে যাচ্ছিলাম তাতে যেতে হলে মাঝখানে একটি ডোমপাড়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। দুজনে ডোমপাড়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।বন্ধুর মন খারাপ তাই সে কোন কথা বলছিল না।পাড়াটি অত্যন্ত নোংরা।রাস্তার পাশে কিছুদূর পরপর স্ট্রিট লাইটপোস্ট। কিছুদূর এগোনের পর অদ্ভূত অনুভূতি হতে লাগল,মনে হল কে যেন আড়াল থেকে আমাদের দেখছে। শাহীনেরও যে একই অবস্থা হয়েছিল তা পরে জেনেছি।অস্বস্তি কাটাবার জন্য দুজনে কথা বলতে বলতে এগোতে লাগলাম। যেতে যেত...