Posts

সংকলন ৮- পানির উপরে লাশ

আমাদের গ্রামের বাড়ি নড়াইলে। বাস থেকে নেমে ১৫ মিনিট মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। আমি প্রতি ১৫ দিনে একবার করে যেতাম বাড়িতে। এখন দেশের বাইরে থাকি তাই যাওয়া হয় না। আপনাদের সাথে যেদিনের কথা শেয়ার করবো তখন আমি ইন্টারে পড়তাম। ঢাকা কলেজে। কলেজ হটাত একদিন বিকালের দিকে বন্ধ দিলো কিছু রাজনৈতিক কারণে। ভাবলাম বাসায় চলে যাবো। মাকে ফোন করে জানালাম। কিন্তু স েদিন বাসায় রাতে আমাকে আনতে যাবার মতো কেউ ছিল না। তাই মা বললেন আসিস না। আমি তবু জিদ করে গেলাম। বাস থেকে নেমে হাঁটা ধরলাম বাড়ির দিকে। রাস্তা পরিষ্কার। তখন শীতের শুরু। তাই মানুষজন একদমই নেই। রাস্তায় কিছুদূর যাবার পর একটা ডোবা পড়ে। তার পাশেই এক বিশাল তাল গাছ। এখানে নাকি অনেকেই খারাপ জিনিস দেখেছে। যদিও আমার সাথে কখনো এমন কিছু ঘটে নি। এবার অনেকদিন পরে বাসায় যাচ্ছি, তাই আনন্দিত ছিলাম। ঠিক ডোবার পাশে আসার সাথে সাথে হটাত পানিতে কি যেন ঝাঁপিয়ে পড়ার আওয়াজ পেলাম। আকাশে চাঁদ ছিল। মোটামুটি ভালোই দেখা যাচ্ছিলো। সেই আলোয় দেখলাম পানিতে একটা মানব দেহ ভাসছে। সাদা কাপড় পড়া। মানে কিভাবে বুঝাব বুঝতেছি না। আসলে সেটা এক মেয়ের দেহ। শরীরে শাড়ি পড়া, কিন্তু পুরো শরীর ঢাকা না...

সংকলন ৭- ভয়ানক (ভুত এফএম)

ঘটনাটি আমার এক বড় ভাই আনিসের কাছ থেকে শোনা। ঘটনাটি ঘটেছিল জামালপুরে। জামালপুরে একজন রিক্সাচালক ছিল। সে অতিরিক্ত ইনকামের জন্য রাতের বেলা বেশিরভাগ সময় রিক্সা চালাতো। কারণ রাতের বেলা ভাড়াটা বেশি পাওয়া যায় বা দূরের যাত্রি পাওয়া যায় যেহুতু সেখানে রেলস্টেশন আছে ।একদিন সে রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। আর কোন রিক্সাওয়ালা তেমন একটা নাই। অনেকরাত। একটা লাস্ট ট্রেন যেটা আসবে সেটা ২ঘন্টার মত দেরী করে ফেলছে।হঠাত্ ট্রেনটি আসল এবং একজন মাত্রপ্যাসেন্জার নামল। লোকটা স্যুট,বুট পড়েছিল এবং হাতে ছিলএকটা ব্রিফকেস। লোকটা এসে রিক্সাওয়ালাকে বলল যাবা। রিক্সাওয়ালা বলল যাবো,কোথায়?? লোকটা বলল আমিযেদিকে বলবো সেদিকে চলো। রিক্সাওয়ালা চালাচ্ছে । চালাতে চালাতে জামালপুরের সবচেয়ে বড় যে কবর স্থানটা সেখানে গের। সাধারনত কবরস্থানের গেটে বিশাল বড় একটা তালা থাকে। লোকটা যখন গেটের সামনে গিয়ে দাড়াল তালাটা autometic খুলে গেল। রিক্সাওয়ালা তখন এই দৃশ্য দেখতেছে। লোকটা ভেতরে চলে গেল।অনেকক্ষন পরে সে হাতে করে কিছু একটা নিয়ে আসতেছে । কাপড়ে ঢাকা একটা ছোটখাট লাশএই টাইপের কিছু একটা নিয়ে আসতেছে । তো সে রিক্সার কাছে আসল এবং রিক্সাওয়ালাকে বলল আমাকে...

সংকলন ৬- ভুত এফ এম এপিসড (ব্লগার দিকভ্রান্ত পথিক)

মেঘলা বিকেলটা একটু অশুভই লাগছিল। মেঘলা আকাশ আর দমকা হাওয়া কেমন যেন একটা আচ্ছন্ন ভাব এনে দিয়েছিল বিকেলটিকে। তখনও আমার বিন্দুমাত্র ধারনা ছিলনা যে বিকেলটি আসলেই কতটা অশুভ ছিল। পরিষ্কার ধারনার খাতিরেই ঘটনাটির একটি সাধারণ ভুমিকা দেয়া প্রয়োজন। আমি স্টুডেন্ট। উচ্চ-মাধ্যমিক এর পাট চুকিয়ে এখন পড়াশুনা করছি মালয়েশিয়ার সবথেকে প্রসিদ্ধ বিদ্যাপীঠ গুলোর একটিতে। আমি সে বিষয়ে বিস্তারিত শেয়ার করা প্রয়োজন মনে করছিনা। সরাসরি গল্পেই চলে যাচ্ছি।  মাত্র শেষ করা সেমিস্টারের ঘটনা, বৃহস্পতিবার শেষ বিকেলে একটি ক্লাস পড়েছিল তখন। কো-কারিকুলার বিষয় এর মধ্যে পড়ার কারনে আলাদা ফ্যাকাল্টি ভবনে ক্লাস ছিল। বাস এর অপেক্ষায় না থেকে হেঁটে চলে গেলাম। যাহোক, যথাসময়য়ে ক্লাস জয়েন করলাম। বিপত্তি বাধল যখন সন্ধ্যা হবে হবে সে সময়। হঠাত করে প্রচণ্ড বিকট একটি আর্ত চিৎকার, নারী কণ্ঠের। ভয়াবহ বিকট ছিল সেই চিৎকার, যেন মৃত্যুর আগে শেষ চিৎকার! অনেক নিরব পরিবেশ, তার উপরে প্রায় সাউন্ড প্রুফ কক্ষে হচ্ছিল ক্লাস, চিত্কার তাই বেশ Weired শুনিয়েছিল! মোটামুটি সবাই ছিটকে বেরুলাম, বিশেষ করে ছেলেরা আর আমাদের শিক্ষিকা, মেয়...

সংকলন ৫- কবরস্থান : আরিফুল হক হিমেল

কৃষ্ণ পক্ষের একটুকরো চাঁদ যেনো আকাশ থেকে ক্লান্তভাবে ঝুলে পড়েছে। নিকষ কালো অন্ধকার । আকাশে মেঘ জমেছে। মাঝে মাঝে মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ছে চাঁদ। বাইরে ভূতুরে হলদে আলো ছড়াচ্ছে ল্যাম্প পোষ্টের পুরনো বাতিটি। সবখানে ভয়ংকর নিস্তব্দতা। এমন সময় ঝুপ করে শব্দ হল। নীচু দেয়াল টপকে কবরস্থানের ভিতরে নামল মজিদ। মাথাটা নীচু করে দেয়ালের সাথে চেপে রইল। হাপাচ্ছে মজিদ। হৃদপিন্ড হাতুরির মতো বাড়ি খাচ্ছে বুকে। আজ একটুর জন্য ধরা পড়ে গিয়েছিল। দশ বছরের কাজের জীবনে তার এমন কখনো হয়নি। মানুষজন সব চালাক হয়ে গেছে। সব সময় কানখাড়া থাকে,একটু শব্দ হলেই জেগে যায়। আজ তো কাজের কাজ কিছুই হলো না মাঝখান থেকে এতবড় বিপদের মধ্যে পড়ল। বাইরে মানুষের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। মজিদ মাথাটা আরও একটু নীচু করে প্রায় শুয়ে পড়ল। মাথার উপর দিয়ে তিন ব্যাটারির তীব্র টর্চের আলোটা বেশ কয়েকবার ঘুরে গেল। বেশ কিছুক্ষন কোলাহলের শব্দ পাওয়া গেল। তারপর সব থেমে গেল। আগের মতো সুনসান,চুপচাপ। গুড়–ম গুড়–ম শব্দে মেঘ ডাকছে। চাঁদটা আবার ঢেকে গেছে মেঘে। জোর বাতাস বইছে। ঠান্ডা বাতাস। মজিদের গায়ে কাটা দিয়ে উঠছে। মজিদ সোজা হয়ে বসেছে। কয়েকবার উঁচু হয়ে দেয়ালের বাইরে দেখল। ন...

সংকলন ৪- ভয়ংকর রাত

ইদানীং এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে রকি। দিন-দুপুরে, রাতে- মোটকথা চোখে ঘুম এলেই স্বপ্নটা ওকে তাড়া করে বেড়ায়। যে কারণে রাতে ঠিক মতন ঘুমতে পারছে না ও। ফলে দিন দিন কাহিল হয়ে যাচ্ছে রকি। ভেঙে আসছে শরীর। সবাই শুনে হাসবে ভেবে কাউকে খুলেও বলতে পারছে না ও সমস্যাটার কথা। একদিন বিকেলে পরিচিত এক ডাক্তারের চেম্বারে হাজির হলো রকি। ডাক্তার ভদ্রলোক মন দিয়েই ওর কথা শুনতে লাগলেন। ‘অস্পস্টভাবে, আবছা আবছা দেখলাম আমি বাইরে থেকে বাসায় এসেছি।’ ঘটনাটা বলতে লাগলো রকি। দুঃস্বপ্নের ঘটনা,‘মনে হলো রাতের বেলা। এ ঘর থেকে ও ঘরে যাচ্ছি। চারদিকে আলো-আঁধারীর খেলা। মাঝেমধ্যে কাউকে ডাকছি বলে মনে হলো। এবং যাকে ডাকছি তাকেই সম্ভবত খুঁজছি সারা ঘরময়। এ ঘর থেকে ও ঘরে ঢুকে বাতি জ্বালাচ্ছি। একসময় রান্না ঘরে পৌছুলাম। এবং যা দেখলাম...’ থেমে গেলো রকি। বিভৎস কিছু কল্পনায় এসেছে বলে কথা আটকে গেছে ওর মুখে। ওকে অভয় দিলেন ডাক্তার,‘রিলেক্স রকি, ধৈর্য্যে নিয়ে বলতে থাকো।’ ঠোঁটজোড়া কেঁপে উঠল রকির। কাঁপাকাঁপা ঠোঁটে আবার শুরু করল ও,‘দেখি...দে-দেখি সারা কিচেন জুড়ে রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। বেসিনে টিপটিপ করে রক্তের ফোঁটা পড়ছে। আর...চুল...

সংকলন ৩- শিকার (অবনীল এর ব্লগ)

শপিং মলের সাম্নের লম্বা ফাঁকা জায়গাটা দিয়ে ধীরে ধীরে গাড়ী চালিয়ে আসার সময় বাচচাটাকে দেখতে পেল শেরিডান। ‘কাজিনটাউন’ লেখা নিয়ন সাইনটার নিচের মেইন দরজাটা ঠেলে বেরিয়ে আসলো ছেলেটা। বয়স বড়জোর তিন থেকে পাঁচ হবে। চেহারায় এমন একটা অভিব্যক্তি, যার সাথে শেরিডান ভালভাবেই পরিচিত। না কাঁদার চেষ্টা করছে বাচ্চাটা, কিন্তু একটু পরেই কাঁদা শুরু করবে। একমুহূর্তের জন্য একটু থাম্লো শেরিডান, নিজের উপর একটা হাল্কা বিরক্তি অনুভব করলো...যদিও যতবার এক্টা করে বাচ্চা তুলে নেয়, অনুভূতিটা ততই একটু একটু করে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। প্রথমবার এক সপ্তাহের জন্য ঘুমাতে পারেনি। খালি চিন্তা করত ওই বিশাল থলথলে তুর্কিটার কথা, নিজেকে মিস্টার উইজার্ড বলে পরিচয় দেয়। খালি ভাবত ব্যাটা বাচ্চাগুলোকে নিয়ে কি করে। “নৌকাভ্রমনে যায় ওরা, মিস্টার শেরিডান”, তুর্কিটা বলেছিল ওকে, কিন্তু কথাটা শোনাত এরকম – নৌকা বরমনে জায় অরা, মিশটার শারডান। তুর্কিটা হাসত। হাসিটা বলত, নিজের ভাল চাইলে এই ব্যাপার আর কিছু জিজ্ঞেস করবি না। কোন ধরনের আন্‌চলিক টান ছাড়াই পরিস্কারভাবে বুঝিয়ে দিত। শেরিডান আর কখনো জিজ্ঞেস করেনি। কিন্তু তার মানে এই না যে এটা নিয়ে ভাবত না। বি...

সংকলন ২- বৃষ্টিপিশাচ (ত্রিমাত্রিক কবি এর ব্লগ)

এক। সারাদিন প্রচন্ড গরম। একেবারে বাজে রকমের ভ্যাপসা গরম। একটা গাছের পাতাও নড়ে না এরকম সময়ে। প্রচন্ড গরমের বিরুদ্ধে গাছপালাও মনে হয় অহিংস আন্দোলনের উদ্দেশ্যে একেবারে মৌনতা পালন করে। অবশ্য এই দু'হাজার বারো সালে ঢাকা শহরে গাছ আছেই বা কোথায়। এই জায়গাটায় অবশ্য এখনও গাছাপালা আছে বেশ কিছু। ঢাকা শহরের প্রচণ্ড ব্যাস্ততার মধ্যেও এই জায়গাটা একটু অন্যরকম, বিশেষ করে ছুটির দিনে। ইন্দিরা রোড। রাস্তার একপাশে খামারবাড়ি, আরেকপাশে তেজগাঁও কলেজ। ছুটির দিনে কলেজ বন্ধ থাকলে রাস্তাটা বেশ লাগে। যদিও একটু ভেতরে ঢুকলেই চাপা গলি আর ভাঙ্গা রাস্তায় জমে থাকা কাঁদাজলের জঞ্জাল, হার্ডওয়ারের দোকান। তারপরেও এই রাস্তাটা সবকিছু থেকে একটু আলাদা। রাস্তাটা অনেকটা ক্যাফেটেরিয়ার মত, লোকমানের কাছে অন্তত তাই মনে হয়। মাঝে মাঝে ছুটির দিনে খ্যাপ ট্যাপ না পেলে, বা খ্যাপ ট্যাপ না মারতে ইচ্ছা করলে, সিএনজির মধ্যেই একেবারে আরামে ঘুম দেয় লোকমান। আশেপাশে কিছু সস্তার খাবারের দোকানও আছে। আঁখের রস ভাঙ্গানোর গাড়ি আছে পাশেই। দুটা সিঙ্গারা আর একগ্লাস আঁখের রস ঢকঢক করে গিলে ছুটির দিনে প্রায়ই সিএনজির মধ্যে গুটলি পাকিয়ে ঘুম দ...